মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে চর দখল নিয়ে দুই বাহিনীর ‘বন্দুকযুদ্ধ’, ব্যাপক গোলাগুলি কুষ্টিয়ায় লালন সাঁইয়ের দানবাক্সে এবার মিলল ৮ লাখ টাকা কুষ্টিয়ায় দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ২০ লক্ষ টাকার বৃত্তি প্রদান কুষ্টিয়ার মিরপুরে চাপাতি-খেলনা পিস্তলসহ দুই ডাকাত আটক প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন কুষ্টিয়ায় দুই দিনের নবজাতক বিক্রি, বেশি দামে বিক্রির আশায় নিখোঁজ নাটক কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদী থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন শনিবার শুরু হচ্ছে লালন স্মরণোৎসব, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

কুষ্টিয়ার কারাগার থেকে পালানো আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

কুমারখালি প্রতিনিধিঃ / ১৫৪ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ন

অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার ১২৪ মামলায় পলাতক আসামি মো.আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা পুলিশ।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তার বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাস ফাউন্ডেশন’ নামে এনজিও খুলে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মানুষকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সুকৌশলে আনিছ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আদালতে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ৭ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা কারাগার ভেঙে বেশ কিছু কয়দি পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে এই আনিছুর রহমানও ছিল। গতরাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ফের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আনিছুর রহমান কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে। ২০০৬ সালে আলাউদ্দিন নগর এলাকায় ‘শ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’নামে একটি এনজিও চালু করে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছরের মধ্যে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা, ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় কয়েকশ শাখা খোলেন আনিছ। দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদী ডিপিএসের নামে মোটা অংকের টাকা জমা নেন। একপর্যায়ে কয়েকশ কোটি টাকা জমা হলে তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি, গাড়িসহ সম্পদের পাহাড় গড়েন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে কর্মীরা টাকার জন্য চাপ দিলে অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি। ২০২৪ সালের শুরুতে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন আদালতে আনিছের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রায় ১২৪টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১২টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় তার।
২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালানোর সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলখানায় পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে আনিছুরসহ ১০৪ জন আসামি পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কুমারখালী থানায় ভিড় করেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
রাজবাড়ীর পাংশার আব্দুল মাজেদ (৬৪) বলেন,‘সারা জীবন গার্মেন্টসে চাকরি করে ১ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। চার বছরে দ্বিগুণ লাভের আশায় আনিছের এনজিওতে রেখেছিলাম। দুই বছরের মাথায় সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।’
শিলাইদহের জাহানারা খাতুন বলেন, ‘চাকরির বেতন, বোনাস, জমির ইজারা, গরু-ছাগল বিক্রিসহ মোট প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম আনিছকে। সব মেরে দিয়ে চলে গেছে। এনজিওর নামে আনিছ প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।’
আনিছের ভাগ্নি বিনা খাতুন বলেন, ‘দ্বিগুণ লাভের আশায় মামার কাছে তিন লাখ টাকা রেখেছিলাম। এখন সব শেষ। হয় টাকা ফেরত দিক, না হলে ওর ফাঁসি হোক।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com