শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পদ্মা ব্যারেজ হলে ২৪ জেলার মানুষ এই প্রকল্পের সুফল পাবেন : এ্যানি চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্লাবিত দুই ইউনিয়ন, বন্ধ ২৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়ায় বাস-নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২০ কুষ্টিয়ার কারাগার থেকে পালানো আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার বাবার জানাজায় যাওয়ার পথেই ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল ছেলের এক কোম্পানি থেকে ১৮ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মারফত আফ্রিদী’র পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ মিরপুরে সাড়ে ৭ হাজার ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদককারবারী আটক মিরপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

’৭১ সালের ২৬ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় সর্ব বৃহৎ গেরিলা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল

মিরপুর প্রতিনিধিঃ / ৩৪৫ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:০৪ পূর্বাহ্ন

’৭১ সালের ২৬ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় সর্ব বৃহৎ গেরিলা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল জেলার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের শেরপুর মাঠে। এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তৎকালী কুষ্টিয়া ই-৯ এর গ্রুপ কমান্ডার  আফতাব উদ্দিন খান ও ডেপুটি কমান্ডার জলিলুর রহমান।

২৫ নভেম্বর রাতে ই-৯ এর গ্রুপ কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান প্রায় ১শ’ জন সুসজ্জিত মুক্তিবাহিনীর একটি দল নিয়ে শেরপুরে সেনপাড়ায় অবস্থান করেন। বিষয়টি পাকবাহিনীরা আঁচ করতে পেরে মধ্য রাতে শেরপুরে আগুন ধরিয়ে বেপরোয়াভাবে গুলি বর্ষণ করে। মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর অবস্থান জানতে পেরে মিরপুর ও দৌলতপুর থানার মধ্যবর্তী স্থান সাগরখালী নদীর তীরে তাদের অবস্থান তড়িৎ সুদৃঢ় করেন।

রাত ৩টায় তারা পাকবাহিনীর মোকাবেলার জন্য ক্রমান্নয়ে অগ্রসর হতে থাকে। ২৬ নভেম্বর ভোর ৫টায় উভয় পক্ষ পরস্পর মুখমুখি হয়ে ৬ ঘন্টা ব্যাপী তুমুল যুদ্ধের পর পাকবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ যুদ্ধে ৬০ জন পাক সৈন্য নিহত এবং শেরপুর গ্রামের মৃত হাজী মেহের আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান নামে এক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

এ ছাড়াও একই গ্রামের মৃত পঁচা বিশ্বাসের ছেলে হিরা ও মৃত আবুল হোসেন বিশ্বাসের ছেলে আজিজুল নামের দু’মুক্তিযোদ্ধা গুরুতর এবং মঈন উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আব্দুর রশিদ ও হায়দার আলীসহ ২০ জন আহত হন। কুষ্টিয়া জেলায় সংঘটিত সর্ব বৃহৎ এ গেরিলা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয় এবং ক্ষয়-ক্ষতির কারণে দৌলতপুর ও মিরপুর থানার একটা বিরাট এলাকা মুক্তি বাহিনীর অবস্থান আরো সুদৃঢ় হয়।

এর ফলে মুজিব বাহিনীর কমান্ডার নাজুমুল করিম সুফি, গ্রুপ কমান্ডার হাবিবুর রহমান ও ইদ্রিস আলীর সহযোগিতায় পাহাড়াপুর পুরাতন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিবাহিনীর একটি শক্তিশালী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। কুষ্টিয়া সাব সেক্টর কমান্ডার তৎকালীন লেঃ খন্দকার নুরুন্নবী এই ক্যাম্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনুমোদন প্রদান করে।

শেরপুর যুদ্ধের পরে এলাকায় প্রচার ছিল সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১ হাজার মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান করছে। ৭ ডিসম্বের ভোরে আফতাব উদ্দিন খানের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী আমলাকে মুক্ত করেন এবং ওই দিন সন্ধ্যার পর আফতাব উদ্দিন খানের নেতৃতে মুক্তিযোদ্ধারা সুলতানপুর গ্রামের জিকে ক্যানালের পশ্চিম পাশে মৃত আবুল হোসেন জোয়ার্দ্দারের বাড়ী সংলগ্ন স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন।

তৎকালীন মিরপুর থানা কাউন্সিল বর্তমান উপজেলা পরিষদ ভবন এলাকায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ২শ’ ৫০ জন পাকবাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাটি ছিলো। পাকবাহিনীর এ ঘাটি হতে মুক্তিবাহিনীর অবস্থান ছিল খুব সন্নিকটে। পাকবাহিনী মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে থাকে। পালিয়ে যাওয়ার সময় মিরপুর থানার (পুলিশ ফাঁড়ি) সমস্ত কাগজ পত্র পুড়িয়ে দেয়।

যার ফলে ৮ ডিসেম্বর ভোরে ই-৯ এর গ্রুপ কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান ১শ’ ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে মিরপুর থানায় স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গান স্যালুটের মাধ্যমে উত্তোলন করেন।

এর পর ৬৫ জন পাকহানাদার বাহিনীর দোসর ও রাজাকার পাহাড়পুর মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে আত্মসমর্পন করেন। এ ভাবেই কুষ্টিয়া জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় সুচিত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com