মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন

শবে বরাত যেভাবে পালন করবেন

ধর্ম ডেস্কঃ / ১৩৪ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ন

শবে বরাত ফারসি ভাষার শব্দ। ‘শব’ অর্থ রাত। আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ, মুক্তি, শান্তি, সৌভাগ্য। আরবিতে একে বলে লাইলাতুল বরাত, সৌভাগ্য রজনী। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, মহান আল্লাহ এ রাতে বান্দাদের গুনাহ মাফ করে দেন, জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আজ রাতে পালিত হবে লাইলাতুল বরাত।

শবে বরাত যেভাবে পালন করবেন–

তওবা করা :আমরা সারা বছর জেনে বা না জেনে অসংখ্য ভুল করে থাকি। এই রাতে আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা, ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে দূরে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নফল নামাজ :নফল নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো নফল নামাজ বা নির্দিষ্ট কিছু রাকাত পড়া বাধ্যতামূলক মনে করা যাবে না। দুই রাকাত করে যতটুকু সম্ভব নামাজ পড়া উত্তম। নামাজে কোরআন তেলাওয়াত, রুকু-সিজদায় দীর্ঘ দোয়া এবং খুশু-খুজুর সঙ্গে মহান আল্লাহর সামনে নিজেকে সোপর্দ করার চেষ্টা করা উচিত।

কোরআন তেলাওয়াত :কোরআন তিলাওয়াত করতে পারেন। এটি অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং ঈমানকে মজবুত করে। অন্তত কিছু আয়াত হলেও মনোযোগসহ তেলাওয়াত করা এবং এর অর্থ অনুধাবনের চেষ্টা করা উত্তম।

দান-সদকা করা :দান-সাদকা জীবনে বহু উপকার নিয়ে আসে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কল্যাণময় কাজে দান-সদকা করার সুফল ঘোষণা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ। তিনি বলেন, (হে রসুল! আপনি) বলুন, আমার প্রভু তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তার জীবিকা বাড়িয়ে দেন অথবা কমিয়ে দেন। তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তিনি তার বিনিময় দেবেন। আর তিনিই শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা। (সুরা সাবা, আয়াত : ৩৯)

দোয়া :দোয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে পারেন। নিজের জন্য, পরিবার-পরিজনের জন্য, মৃত আত্মীয়দের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করতে পারেন। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, ঈমানের দৃঢ়তা, হালাল রিজিক এবং সুন্দর পরিণতির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেতে পারে।

কবর জিয়ারত:শবে বরাতে মৃতদের জন্য দোয়া করাও একটি উত্তম আমল। হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রাতে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করেছেন। তাই ঘরে বসে হলেও পিতা-মাতা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের রুহের মাগফিরাত কামনা করা যেতে পারে।

নফল রোজা :পরদিন অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসে অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন। এবং প্রতি আরবি মাসের ১৫ তারিখেও তিনি রোজা রাখতেন। শবে বরাতের পরদিন রোজা রাখা সেই সুন্নতেরই একটি অংশ।

যেসব কাজ বর্জন করবেন :আতশবাজি, ফানুস ও অনর্থক আড্ডা এই রাতের পবিত্রতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তেমনি বিদয়াতপূর্ণ আমল বা ভিত্তিহীন প্রথা থেকেও দূরে থাকা উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com