কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সেনাসদস্যবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম জিয়াউল ইসলাম (৪৫)। এ ঘটনায় সেনাসদস্যসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। আহত ব্যক্তিদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকার কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়াউল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা। তিনি হিমেল পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিমেল পরিবহনের একটি বাস খুলনা থেকে জামালপুর যাচ্ছিল। অন্যদিকে ঈদের ছুটি শেষে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাসদস্যদের নিয়ে আরেকটি বাস খুলনায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসই দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, দুটি বাসের সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আহত ব্যক্তিদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত সেনাসদস্য মেহেদী হাসান বলেন, ‘বগুড়া থেকে বাসটি ছেড়েছিল। বিভিন্ন স্থান থেকে সেনাসদস্যদের নিয়ে খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসে এএসসি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ সামনে দ্রুতগতিতে আসা আরেকটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে আমাদের বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে কমবেশি সবাই আহত হন।’
হিমেল পরিবহনের যাত্রী জীবন ইসলাম বলেন, ‘চাকরির পরীক্ষা দিতে খুলনা থেকে জামালপুর যাচ্ছিলাম। এ সময় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বাসে ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন।’
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল ওবায়েদ বলেন, ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দুই বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘বাসটিতে ৪০-৪২ জন সেনাসদস্য ছিলেন। তাঁরা সবাই সেনাবাহিনীতে নতুন রিক্রুট হয়েছেন। কমবেশি অনেকে আহত হয়েছেন। আহত সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একজন সিভিলিয়ান (বেসামরিক) নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি।’