বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন

ইরানকে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫ শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ / ৬৭ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৬:৫০ পূর্বাহ্ন

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও সংঘাত নিরসনের প্রক্রিয়ায় নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন পাঁচটি বড় শর্ত আরোপ করেছে, যা ইতোমধ্যে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

রোববার (১৭ মে) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো-ইরানের উৎপাদিত প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি আমেরিকার হাতে হস্তান্তর করতে হবে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নীতিগত সিদ্ধান্তে ইরানের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন আরও শর্ত দিয়েছে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির আওতায় থাকা একাধিক স্থাপনার মধ্যে ভবিষ্যতে মাত্র একটি কেন্দ্র সচল রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সম্পদের অন্তত ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের বিষয়টিকেও আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যদি মার্কিন শর্ত মেনেও নেয়, তবুও দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হবে না।

এদিকে মার্কিন অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে ইরানের গণমাধ্যম ও কর্মকর্তারা। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করতে পারেনি, এখন তা আলোচনার টেবিলে আদায় করতে চাইছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ সতর্ক করে বলেন, ইরানের প্রস্তাব উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে এর মূল্য দিতে হবে মার্কিন জনগণকেই।

অন্যদিকে আলোচনায় বসার জন্য ইরানও পাঁচটি পূর্বশর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ, ইরানের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা সব অর্থ ছাড় এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান।

এছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, নতুন করে কোনো হামলা হলে তার জবাব হবে আরও ‘বিধ্বংসী’।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন কূটনীতিকে নিজেদের সামরিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও এখনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ।

সূত্র: এনডিটিভি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com