মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

এমপি না হয়েও মন্ত্রী হলেন যারা

কুষ্টিয়া পোস্ট ডেস্কঃ / ১৩১ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের পর নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ‘টেকনোক্র্যাট’ কোটায় কারা মন্ত্রী হয়েছেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। সংসদ সদস্য (এমপি) না হয়েও কিভাবে কেউ মন্ত্রী হন এবং কেন এমন সুযোগ রাখা হয়েছে—এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কী?

সহজভাবে বলতে গেলে, যিনি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হননি কিন্তু বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে মন্ত্রিসভায় স্থান পান—তিনিই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী।

অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, পররাষ্ট্র বা স্বাস্থ্যখাতের মতো জটিল ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে এ ধরনের নিয়োগ বেশি দেখা যায়।

সাংবিধানিক ভিত্তি

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার মোট সদস্যের অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নন—এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে শর্ত হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংসদ সদস্য হওয়ার সব সাংবিধানিক যোগ্যতা থাকতে হবে। অর্থাৎ, তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে আইনগতভাবে অযোগ্য হতেন না।

কেন রাখা হয়েছে এ ব্যবস্থা?

রাষ্ট্র পরিচালনার নানা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামত ও কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন হয়। সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও পেশাগতভাবে দক্ষ ব্যক্তিরা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

এ ছাড়া মেধা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা, সরকারের কাজে বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি, রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এসব কারণেই টেকনোক্র্যাট কোটার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট যারা

৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

এর মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় দুজন পূর্ণ মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন ও ড. খলিলুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।

হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন

হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও দলীয় মনোনয়ন পাননি।

পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও ১৯ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

এর আগে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

ড. খলিলুর রহমান

খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ পান। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারে যোগ দেন।

আমিনুল হক

আমিনুল হক জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক। তিনি ঢাকা-১৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

বাংলাদেশে কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার নজির খুব কম। স্বাধীনতার পর সাবেক তারকা ফুটবলার মেজর হাফিজ প্রথম মন্ত্রিত্ব পান। পরে সাবেক জাতীয় ফুটবলার আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হন।

সে ধারাবাহিকতায় আমিনুল হক তৃতীয় সাবেক জাতীয় ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com