বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির কড়া বার্তা দিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিও। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা অনর্থক যুদ্ধে জড়ায় এবং রক্তপাত ঘটায়, সৃষ্টিকর্তা কখনোই তাদের প্রার্থনায় সাড়া দেন না।

রবিবার (২৯ মার্চ) পবিত্র ‘পাম সানডে’র বিশেষ উপাসনা শেষে ভ্যাটিকান সিটি থেকে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণ করা এই প্রথম মার্কিন পোপ শুরু থেকেই বিশ্বশান্তির পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
বক্তব্য প্রদানকালে পোপ চতুর্দশ লিও যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক ঈশ্বরের উপাসনা করি যিনি শান্তির প্রতীক। তিনি যুদ্ধের ঘোর বিরোধী। যারা নিজের স্বার্থে বা ক্ষমতার দাপটে যুদ্ধ শুরু করে, তাদের কোনো প্রার্থনা বা আরজি সৃষ্টিকর্তার দরবারে পৌঁছায় না।’ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি গাজাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।
ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাঞ্জেলাস’ প্রার্থনা শেষে পোপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের নিন্দা জানান। তিনি বিশেষভাবে ওই অঞ্চলে বসবাসরত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। পোপ বলেন, ‘ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে সেখানকার খ্রিস্টানরা এই পবিত্র দিনগুলোর ধর্মীয় রীতিও পালন করতে পারছে না। তারা মানবিক বিপর্যয়ের চরম সীমায় অবস্থান করছে।’
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই পোপ মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে টেকসই যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পোপ সব পক্ষকে অস্ত্র ত্যাগ করে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে ৭০ বছর বয়সী এই ধর্মগুরু সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করেই যুদ্ধের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন এবং বিশ্বনেতাদের প্রতি শান্তি প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার বার্তা দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।