মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

কুষ্টিয়া পোস্ট ডেস্কঃ / ৭৭ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ন

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকের পর রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

  • তবে তাকে কোন মামলায় বা কী কারণে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকের বিষয়টি নিশ্চিত এবং এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

    শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি প্রথমবারের মতো স্পিকার নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর আবদুল হামিদ স্পিকার নির্বাচিত হন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে টানা এই পদে বহাল থাকেন। সর্বশেষ ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পরও তিনি পুনরায় স্পিকার নির্বাচিত হন।

    রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

    এদিকে, রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন (৩৮) হত্যা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে তার বিরুদ্ধে আরও ১৭ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার (৩২), যিনি রংপুর শহরের পূর্ব গণেশপুর এলাকার বাসিন্দা।

    এর আগে, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই মামলায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি-কে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে মুসলিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হলে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে আসামিদের চাপে মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- রংপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোহাম্মদ আহসানুল হক চৌধুরী, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাছিমা জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হক প্রামাণিক, আওয়ামী লীগ নেতা রাশেক রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছায়াদাত হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শফিয়ার রহমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন,

রংপুর রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি আবদুল বাতেন, রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান, রংপুরের সাবেক পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) আবু আশরাফ সিদ্দিকী। এছাড়া মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com