বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় জ্বলছে না সেতুর ৩৬ বাতি, তার চুরি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ / ৩৩ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি সেতুর ৩৬টি বাতি জ্বলছে না। বৈদ্যুতিক কেবল (তার) চুরির ১১ মাস হতে চললেও বাতিগুলো চালুর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। ফলে স্থানীয় ও বিভিন্ন যানবাহন রাতে দুর্ঘটনা, ছিনতাইয়ের আশঙ্কা নিয়েই চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, কুমারখালী-যদুবয়রা সড়কে গড়াই নদীর ওপর নির্মিত ৬৫০ মিটার পিসি গার্ডার সেতুটি ২০২৩ সালে সবার চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই সেতুটি থেকে বৈদ্যুতিক কেবল (তার) চুরি হয়। ফলে বন্ধ হয়ে আছে ৩৬টি সড়কবাতি। অকেজো পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা খরচে সেতুটি নির্মাণ করে ন্যাশনটেক কমিউনিকেশন ও রানা বিল্ডার্স। ২০২৩ সালের ২৮ জুন  সেতুটি দিয়ে জনসাধারণ চলাচল শুরু করে। এ সেতুর জন্য সরকারকে মাসে ২৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল গুণতে হয়।

বিল বকেয়া থাকায় কয়েক মাস বন্ধ ছিল বাতি। ফলে ৩৫টি বাতি অকেজো হয়ে যায়। তারপর ১৭টি বাতি পুনঃস্থাপন করা হয়। ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই রাতে সেতুর প্রায় চার লাখ টাকা দামের ৬৫০ মিটার কেবল চুরি হয়ে যায়। এরপর থেকে আর রাতে আলো জ্বলেনি সেতুতে।

সোমবার (৮ জুন) রাতে দেখা গেছে, সেতুতে ঘুটঘুটে অন্ধকার। দুই পাশে সারিবদ্ধ খুঁটিতে বাতি স্থাপন করা থাকলেও তা জ্বলছে না। ৩৬টি খুঁটির মধ্যে মাত্র চারটিতে সোলার প্যানেলের বাতি জ্বলতে দেখা যায়। হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহনগুলো চলাচল করছে।

জোতমোড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদ শরীফ বলেন, “শত কোটি টাকার সেতুতে লাইট থাকবে না এটি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা। এ বিষয়টি তদারকি করার যে কেউ আছে তাও বোঝা যায় না।”

এই শিক্ষকের অভিযোগ, “রাত ১০টা বাজলেই সেতুতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। যারা চুরি করেছে সিসিটিভি থাকতেও তাদের শনাক্ত করে কেন গ্রেপ্তার করা হয় না। বাতি না থাকায় সেতুর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।”

কুমারখালী এলজিইডির প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, “বিল বকেয়া থাকায় কিছুদিন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। ফলে  কিছু বাতি নষ্ট হয়। পরে বকেয়া পরিশোধ করে ১৭টি বাতি পুনঃস্থাপন করা হয়। প্রায় চার লাখ টাকার কেবল চুরি হওয়ায় সব বাতি বন্ধ রয়েছে। কেবল কেনা ও বাতি জ্বালানোর জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।”

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জনদুর্ভোগ হচ্ছে বলে স্বীকার করে বলেন, “জনস্বার্থে ইতোমধ্যে চারটি সোলার বাতি স্থাপন করা হয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com