হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক রোগীতে ঠাসা। ওয়ার্ডের কক্ষ পূর্ণ হয়ে বারান্দায় রাখা হয়েছে শিশু রোগীদের। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের আলাদাভাবে দোতলার একটি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেখানেও বিছানার ঘাটতি। কয়েকটি বিছানায় দুজন করে শিশু রাখা হয়েছে। অধিকাংশ শিশুই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। শরীরে ফোটা ফোটা র্যাশও রয়েছে। শিশু সন্তানদের কোলে নিয়ে বসে আছেন তাদের মায়েরা ও স্বজনেরা।
তবে অভিযোগ রয়েছে— হাসপাতাল থেকে কোন প্রকার ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সিরিঞ্জসহ অক্সিজেন দেওয়ার পানি ও নল যাবতীয় সব কিছু বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। সারাদিনে একবার চিকিৎসকরা রাউন্ডে আসেন।
হামে আক্রান্ত তিন মাস বয়সী মেয়ে ফারিয়া খাতুনকে নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় বসে ছিলেন মা মিতু খাতুন। তার বাড়ি সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামে। শনিবার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করান। তিনি জানান— তার নিজেরও ঠান্ডা জ্বর ছিল। এরপর মেয়ের প্রচন্ড জ্বর আসে। গায়ে র্যাশ দেখা দেয় প্রচুর। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল। বেসরকারিভাবে এক চিকিৎসককে দেখানো পর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করা হয়। এখন শ্বাসকষ্ট কমেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতাল কোনো প্রকার ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সিরিঞ্জসহ অক্সিজেন দেওয়ার পানি ও নল যাবতীয় সব কিছু বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে বার’শ টাকা খরচ হচ্ছে। জ্বরের সিরাপ পর্যন্ত বাইরে থেকে কেনা লাগছে। ২৪ ঘন্টায় একবার শুধু বেলা এগারটার দিকে ডাক্তার আসছে।’
একই অভিযোগ সদর উপজেলার আলামপুর গ্রাম থেকে আসা নাজনীন আক্তারের। তার তিন মাস বয়সী সন্তান ওরহানকে নিয়ে তিনদিন আগে ভর্তি হন। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ছেলের জ্বর হয়। চারদিন ছিল। এরপর সারা শরীরে ছোট ছোট র্যাশে ভরে যায়। পরে হাসপাতালে আনছি। এখন কিছুটা ভালো আছে।’ তিনিও ২৪ঘন্টায় একজন চিকিৎসক শুধু সকাল বেলায় আসে বলে অভিযোগ করেন।
কুমারখালী থেকে আয়ান নামে এক শিশুকে নিয়ে চারদিন আগে ভর্তি করিয়েছেন মা অন্তরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘একটা সিরিঞ্জও দেয় না। সব ওষুধ বাইরে থেকে কেনা লাগছে। এমনকি ফার্মেসীতেও পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।’