মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

ভেনেজুয়েলার পর ইরানে ‘কঠিন হামলার’ হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ / ৮০ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর এবার ইরানকে সরাসরি হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে যদি আবারও বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব শক্ত আঘাত’ হানবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

রোববার (৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরিস্থিতি তারা খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার কথায়, অতীতের মতো যদি ইরানে মানুষ হত্যা শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খুব কঠোর প্রতিক্রিয়া আসবে।

ট্রাম্প এর আগেও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের প্রাণহানি হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে।

এদিকে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে। সোমবার সকালে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থি কর্মকর্তাদের বক্তব্য সন্ত্রাস ও সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইহুদবাদী সত্তা’ ইরানের জাতীয় ঐক্যে আঘাত হানার যেকোনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার নিন্দা

এদিকে, ভেনেজুয়েলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান ও বক্তব্যকে ‘ঔপনিবেশিক যুগের চিন্তাধারা’ বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওয়াশিংটনের মন্তব্যগুলো আসলে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্যই প্রকাশ করছে।

সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতেও তেহরানের পররাষ্ট্রনীতিতে এই নীতিই অনুসরণ করা হবে।

ভেনেজুয়েলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দেশটির শাসনভার নেওয়ার কথা ভাবছেন—এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় বাঘাই বলেন, অতীতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার স্লোগান তুলে বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া হতো। কিন্তু এখন তারা খোলাখুলিভাবেই বলছে, আসল বিষয় ভেনেজুয়েলার তেল।

তিনি বলেন, কোনো দেশ আরেকটি দেশ চালাবে—এ ধরনের দাবি ভেনেজুয়েলাসহ কোনো জাতির কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি স্পষ্টভাবে ঔপনিবেশিক যুগের মানসিকতায় ফিরে যাওয়ারই প্রতিফলন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com