কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারে হামলায় নিহত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক সিদ্ধান্তে রোববার (১২ এপ্রিল) বাদ আসর নামাজের পর মুসলিম রীতি অনুযায়ী স্থানীয় ঈদগাহে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে দাফন করা হয়।
এদিন বেলা ১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার নিজ গ্রাম ফিলিপনগরে মরদেহ নিয়ে আসা হয়। এসময় তার ভক্তরা দরবারে দাফনের অনুরোধ করলে পরিবার থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। এসময় পরিবার থেকে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, দরবারে না স্থানীয় গোরস্থানে মুসলিম রীতি অনুযায়ী জানাজা নামাজ ও গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
পীরের জানাজার জন্য ঈদগাহে নিয়ে আসলে তার ভক্তরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকেন। নিহত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, দুপুরে নামাজ পড়ে এসে খাওয়া-দাওয়ার সময় হঠাৎ চিল্লাচিল্লিতে বাইরে বের হয়ে দেখি ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। পুলিশের সহায়তায় তাকে নিয়ে আমরা হাসপাতালে যাই। এর কিছুক্ষণ পরে আমার ভাই মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, আমার ভাই খুব ভালো ছাত্র ছিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছেন। পরে তিনি রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজমেন্টের প্রধান ছিলেন। চাকরিরত অবস্থায় তার বিয়ে হয় এবং দেড় থেকে দুই বছরের সংসার জীবন হওয়ার পরে তারা আলাদা হয়ে যায়। এরপরে আমার ভাই কেরানীগঞ্জের জাহাঙ্গীরের কাছে ছিলেন। এরপর থেকে আমরা জানি, আমার ভাই মারা গেছেন। তার কোনো খোঁজ খবর ছিল না। করোণাকালে আমার ভাই এলাকায় আসেন। তারপর থেকে তিনি নিজের মত করে থাকা শুরু করেন। আমার ভাই খুব সৌখিন মানুষ ছিলেন। অভিযোগ থাকলে সমাধান করতে পারত। এইভাবে একটা মানুষকে মারা ঠিক হয়নি।
মামলার বিষয়ে তিনি জানান, আজ রোববার রাতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেব; আমরা মামলা করব কি করব না। বা কি করা যায়।
দাফনের পর তার ফুফাতো ভাই জানান, যারা এই কাজ করেছেন খুব খারাপ করেছেন। কোনো সমস্যা থাকলে তার সাথে বসতে পারতো। তাকে বলতে পারতো। দেশে আইন-কানুন আছে। তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারতো। এইভাবে একটা মানুষকে দিনের বেলা কেন হত্যা করতে হবে। কি স্বার্থ আছে তাদের?
কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন অবস্থায় দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দাফনের পরে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেজন্য এই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তবে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলার পর একই এলাকার বাউল সংগীত শিল্পী শফি মন্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।