বেশিরভাগ রেস্তোরাঁ ভালো খাবার ও সুন্দর পরিবেশের কথা বলে। কিন্তু ভারতের আহমেদাবাদের নিউ লাকি রেস্তোরাঁ একটু অন্যরকম। এখানে ২৬টি পুরোনো কবরের পাশে বসেই মানুষ চা পান করেন এবং খাবার খান। কবরগুলো রেস্তোরাঁর ভেতরেই রয়েছে, আর সেগুলো প্রায় একশ বছরেরও বেশি পুরোনো। বিষয়টি প্রথমে অদ্ভুত মনে হলেও, স্থানীয়দের কাছে এটি শহরের অন্যতম আইকনিক রেস্তোরাঁয় প্রতিদিনের স্বাভাবিক দৃশ্য।
রেস্তোরাঁটিকে প্রায়ই বিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত খাবারের জায়গা বলা হয়। তবে এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, কবরগুলো কোনো সাজসজ্জার অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়নি। বরং এগুলো আগে থেকেই সেখানে ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৫ বছরেরও বেশি সময় আগে রেস্তোরাঁটি নির্মাণের সময় মালিক কৃষ্ণন কুট্টি জানতে পারেন, ওই জমিতে কবর রয়েছে। ধারণা করা হয়, এগুলো ১৬ শতকের সুফি সাধক ও তাদের স্বজনদের কবর।
কবরগুলো সরিয়ে না ফেলে তিনি এমন একটি সিদ্ধান্ত নেন, যা পরবর্তীতে রেস্তোরাঁটির পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। তিনি প্রতিটি কবর সংরক্ষণ করেন, সেগুলোর চারপাশে লোহার রেলিং তৈরি করেন এবং কবরগুলোর মাঝের জায়গায় টেবিল সাজান। বর্তমানে অতিথিরা সবুজ পাথরের কবরগুলোর পাশ দিয়ে হেঁটে নিজেদের টেবিলে বসেন এবং চা বা খাবার উপভোগ করেন। রেস্তোরাঁটির ভেতরে বর্তমানে মোট ২৬টি কবর রয়েছে।
কবরগুলোকে কোনোভাবেই সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। প্রতিটি কবর লোহার রেলিং দিয়ে যতœসহকারে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। কর্মীরা প্রতিদিন জায়গাটি পরিষ্কার করেন, তাজা ফুল দেন এবং সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে আল-ফাতিহা পাঠ করেন। রেস্তোরাঁটির ঠিক পাশেই রয়েছে একটি দরগাহ। দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং গভীর শ্রদ্ধার এই সহাবস্থানই সম্ভবত প্রথমবারের মতো আসা দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি অবাক করে।
কবরের পাশে বসে খেতে অনেকের অস্বস্তি হতে পারে বলে মনে হলেও বাস্তবে ঘটেছে ঠিক তার উল্টোটা। রেস্তোরাঁটি সারাদিনই পরিবার, অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট থাকে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও কোনো দ্বিধা ছাড়াই এখানে আসেন।