মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

রংপুরে জনসমুদ্রে তারেক রহমান ধানের শীষে সিল মারুন, হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিন

কুষ্টিয়া পোস্ট ডেস্ক / ৭৩ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ন

ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উত্তরাঞ্চল সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার রাতে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি নেতাকর্মী ও ভোটারদের এই আহ্বান জানান। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার শুরু করলেন তারেক রহমান। সেই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের প্রতিও ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে থাকার বার্তা দিলেন তিনি। এর আগে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, আপনারা জানেন আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। অন্তর্বর্তী সরকার একটি সংস্কার কমিশন করে। কমবেশি সব রাজনৈতিক দল সে সংস্কার কমিশনে তাদের সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। আমরা সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি। হতে পারে কিছু সংস্কার প্রস্তাবে দ্বিমত আছে। আমরা লুকোচুরি করিনি, কোনোটিতে সম্মতি দিয়েছি, কোনোটিতে ডিসঅ্যাগ্রিমেন্ট (দ্বিমত) দিয়েছি। লুকোচুরির কোনো বিষয় নয়। যে অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ হাজারো ছাত্রজনতা জীবন উৎসর্গ করেছে, তাদের এই জীবনের মূল্য দিতে আমরা জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছি।

এ সময় দলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এখন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একটি ব্যালটে ধানের শীষে সিল মারুন, অন্য ব্যালটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেন।

এর আগে বিকালে বগুড়ার মোকামতলা বন্দরে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলমের নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটিÑএটা সারা বাংলাদেশ জানে। বগুড়ার মানুষ এবার প্রমাণ করে দেখাবে বগুড়ার মাটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি।

তারেক রহমান বলেন, এর আগে ধানের শীষ যতবার দেশ পরিচালনা করেছে, আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে এলাকার উন্নয়ন করার জন্য। এখনো অনেক কাজ বাকি আছে।

নিজেকে বগুড়ার সন্তান উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমি আপনাদের সন্তান। মহান আল্লাহ সুযোগ দিলে দেশ ও দেশের মানুষের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি, এজন্য সবার দোয়া চাই।

এর আগে বগুড়া শহরে বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তারেক রহমান। ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ তিনি মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। নিজের হাতে গড়া এ মসজিদটিতে দীর্ঘ ২২ বছর পর নামাজ আদায়ের সুযোগ পান তারেক রহমান। জুমার নামাজের ইমামতি করেন মুফতি জোবায়ের হোসেন।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

এ সময় মুসল্লিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল বগুড়ার মানুষের জন্য। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিয়েছেন বগুড়ার মতো জায়গায় এমন একটি মসজিদ গড়ে তোলার। মসজিদের এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, তা বাস্তবায়ন হয়নি। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে মসজিদটি সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হবে। যাতে এটি নিয়ে বগুড়ার মানুষ গর্ব করতে পারে। তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন। ভবিষ্যতে দেশের দায়িত্ব পেলে সমগ্র দেশে কাজ করা হবে।

বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে নামাজ শেষে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে বগুড়া থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তারেক রহমান। পথিমধ্যে গাড়িবহর থেকে নেমে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে হজরত শাহ সুলতান বলখীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। বগুড়া থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মহাস্থানগড় যাওয়ার পথে রাস্তার দুপাশে হাজার হাজার নারী-পুরুষ তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। মাটিডালি মোড়, বাঘোপাড়া, মহাস্থানগড়সহ ১০টি পয়েন্টে তারেক রহমান হাত নেড়ে তাদের আহ্বানে সাড়া দেন।

মহাস্থানগড়ের মহিসওয়ার কলেজ মাঠে তিনি ধানের শীষে প্রার্থী মীর শাহে আলমের পক্ষে গণসংযোগ করেন। পরে রংপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। সেখান থেকে রংপুর ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় যোগ দেন।

এদিকে দুপুরে রংপুরের উদ্দেশে বের হওয়ার আগে শহরের একটি হোটেলে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেওয়ার পরে ওই তিনতারকা হোটেলটিতে রাতযাপন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

হুইলচেয়ার বিতরণ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব শ্রেণির মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবে এবং প্রত্যেকে তার ন্যায্য অধিকার পাবে।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান শিশুদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন। তার এ আন্তরিকতায় অভিভাবক ও উপস্থিত অতিথিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com