মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় পানিবন্দি ৪০ গ্রামের মানুষ, প্রায় ৪৭০ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে

দৌলতপুর প্রতিনিধি: / ১৪৪ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বর্তমানে প্রায় ৪৭০ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে রয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ঘরের আশপাশে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলও বন্ধ হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ফসল, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পানিবন্দি মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকটও আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ। চারদিকে পানি থাকায় ঘরে সাপ ঢুকে পড়ার আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

পানি ঢুকে পড়ায় এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পানিবন্দী এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি বলে জানা গেছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, দুই ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। গত বুধবার সাড়ে ৩৫০ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ত্রাণের বরাদ্দও পাওয়া গেছে, শিগগির তা বিতরণ করা হবে।

এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে দৌলতপুরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, ‘পানিতে নিমজ্জিত ফসলি জমির পরিমাণ প্রতিনিয়িত বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৪৭০ হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com