মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে খড়ের নিচে পড়ে থাকা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, আটক ১

দৌলতপুর প্রতিনিধি: / ১০৬ জন পড়েছেন
প্রকাশঃ বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে খড়ের নিচে পড়ে থাকা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের নাম রাজা হোসেন (২৫)। তিনি উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের ইমাম আলীর ছেলে। গ্রেপ্তার যুবকের নাম রিফাছ হোসেন (২৬)। তিনি একই গ্রামের সফেদ হোসেনের ছেলে ও নিহতের বন্ধু।

পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ায় বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন রিফাছ। সেই টাকা জোগাড় করতে বন্ধু রাজাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে হেফাজতে নেওয়া হলেও রিফাছকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠ এলাকায় ইট বিছানো সড়কের পাশ থেকে রাজা হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কৃষক সানাউল্লাহ মাঠে যাওয়ার সময় কয়েকটি শিয়ালকে খড়ের পাশে টানাটানি করতে দেখে কাছে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাজা সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে দৌলতপুর থানায় জিডি করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর পাশে পড়ে থাকা স্যান্ডেল, হাতঘড়ি ও পরনের পোশাক দেখে পরিবারের সদস্যরা রাজাকে শনাক্ত করেন। পরে ঝিনাইদহ থেকে সিআইডির ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

দৌলতপুর থানার পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রিফাছ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। রাজাকে ডেকে নিয়ে মাদক সেবনের পর জাল বা নেটজাতীয় বস্তু দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। মরদেহটি খড় ও ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমাম আলী বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে রিফাছ আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর ....
Theme Created By ThemesDealer.Com